Sunday, June 30, 2013

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান


  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সুপরিসর নগর উদ্যান। এটি পূর্বে রমনা রেস কোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। এক সময় ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ সৈন্যদের সামরিক ক্লাব এখানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। পরবর্তীতে এটি রমনা রেস কোর্স এবং তারপর রমনা জিমখানা হিসাবে ডাকা হত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর মাঠটিকে কখনও কখনও ঢাকা রেস কোর্স নামে ডাকা হত এবং প্রতি রবিবার বৈধ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হত। একটি জাতীয় স্মৃতিচিহ্নও বটে কেননা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণ এখানেই প্রদান করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বার পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই উদ্যানেই আত্মসমর্পণ করে মিত্রবাহিনীর কাছে। রেস কোর্স ময়দানের অদূরে অবস্থিত তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের স্থান হিসেবে প্রথমে নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে আত্মসমর্পনের জন্য এই মাঠটি নির্বাচন করা হয়। অবস্থান রমনা রেসকোর্সের দক্ষিণে পুরানো হাইকোর্ট ভবন, তিন জাতীয় নেতা শেরে-বাংলা এ. কে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধি; পশ্চিমে বাংলা একাডেমী, অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, চারুকলা ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, পাবলিক লাইবে্ররি এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর; উত্তরে বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা ক্লাব ও ঢাকার টেনিস কমপ্লেক্স এবং পূর্বে সুপ্রীম কোর্ট ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট ও রমনা পার্ক। প্রাথমিক ইতিহাস তখন পশ্চিমে আজিমপুর, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি, দক্ষিণে বর্তমান সচিবালয় ভবন, কার্জন হল, চাঁনখার পুল ও পূর্বে পুরানা পল্টন, সেগুনবাগিচা, ও রাজারবাগ আর উত্তরে সেন্ট্রাল রোড, পরিবাগ ও ইস্কাটন পর্যন্ত এলাকাটি বিস্তৃত ছিল। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানি শাসনামলে ঢাকার চারটি থানার একটির নামকরণ করা হয়েছিল রমনা। বর্তমানেও ঢাকার ২০টি থানার একটি হচ্ছে রমনা। রমনার ইতিহাস শুরু হয় ইংরেজি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে যখন মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবাহদার ইসলাম খান ঢাকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ সময় ঢাকার উত্তর শহরতলিতে দুটি চমৎকার আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। সুবাহদার ইসলাম খান চিশতির ভাইয়ের নামানুসারে এর একটির নামকরণ করা হয় মহল্লা চিশতিয়া এবং সুবাহদার ইসলাম খানের একজন সেনাধ্যক্ষ সুজা খানের নামানুসারে অপর এলাকাটির নামকরণ হয় মহল্লা সুজাতপুর। এই এলাকায় তখন উন্নত বসতবাড়ি ছাড়াও মসজিদ, বাগান, সমাধিসৌধ, মন্দির ইত্যাদি গড়ে ওঠে। মুগল সাম্রাজের পতনের পর রমনা ধীরে ধীরে তার পুরানো গৌরব হারিয়ে ফেলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সরকারি কাগজপত্রে রমনার নাম তেমন একটা চোখে পড়ে না। বস্তুত ঐ সময় রমনা ছিল একটি জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত এলাকা যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দালানকোঠা, মন্দির, সমাধি ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ব্রিটিশ আমল ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ব্রিটিশ কালেক্টর মি. ডয়েস ঢাকা নগরীর উন্নয়নকল্পে কতগুলি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই ঢাকা আবার তার পুরানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করে। ঐ সময় কালেক্টর ডয়েস কালী মন্দির ছাড়া অন্যান্য বেশির ভাগ পুরানো স্থাপনা সরিয়ে ফেলেন এবং জঙ্গল পরিষ্পার করে রমনাকে একটি পরিচ্ছন্ন এলাকার রূপ দেন। পুরানো হাইকোর্ট ভবনের পশ্চিমে বর্তমানে অবস্থিত মসজিদ এবং সমাধিগুলি তিনি অক্ষত রাখেন। পুরো এলাকাটি পরিষ্পার করে তিনি এর নাম দেন রমনা গ্রীন এবং এলাকাটিকে রেসকোর্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঠের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন। রমনা রেসকোর্সের মধ্যখানে একটি কালী মন্দির ছিল। এটি ছিল দশনামী গোত্রের হিন্দুদের কালী মন্দির। মনে করা হয় যে, নেপাল থেকে আগত দেবী কালীর একজন ভক্ত এই মন্দির নির্মাণ করেন। ঢাকা শহরের অন্যতম পুরানো এবং বনেদি এই কালী মন্দিরটি পরে ভাওয়ালের রানী বিলাসমণি দেবী সংস্কার ও উন্নয়ন করেন। নাজির হোসেন কিংবদন্তির ঢাকা গ্রন্থে লিখেছেন, "ব্রিটিশ আমলে রমনা ময়দানটি ঘোড়দৌড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রতি শনিবার হতো ঘোড়দৌড়। এটা ছিল একই সঙ্গে ব্রিটিশ শাসক ও সর্বস্তরের মানুষের চিত্তবিনোদনের একটি স্থান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদের এক বিবরণ থেকে জানা যায়, চার্লস ডজ রমনায় রেসকোর্স বা ঘোড়দৌড়ের মাঠ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার খ্যাতনামা আলেম মুফতি দীন মহম্মদ এক মাহফিল থেকে ঘৌড়দৌড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এ কারণে সরকার ১৯৪৯ সালে ঘৌড়দৌড় বন্ধ করে দেয়। ঢাকার নওয়াবদের আনুকূল্যে একসময় ঘোড়দৌড় ঢাকায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রাবাস মহসীন হলের উত্তরপাশে নওয়াবদের ঘোড়ার আস্তাবল কিছুদিন আগেও ছিল অক্ষত। ঢাকার নওয়াবগণ রেসকোর্স এলাকাটির উন্নয়ন সাধন করেন এবং এলাকায় একটি সুন্দর বাগান তৈরি করে তার নাম দেন শাহবাগ বা রাজকীয় বাগান। নওয়াবগণ এলাকাতে একটি চিড়িয়াখানাও স্থাপন করেছিলেন। ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে রেসকোর্সের উত্তর কোণে ব্রিটিশ আমলারা ঢাকা ক্লাব স্থাপন করেন। পরে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গের সময় পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নবগঠিত প্রদেশের গভর্নরের সরকারি বাসভবন স্থাপনের জন্যও রমনা এলাকাকে নির্বাচন করা হয়। এই গভর্নমেন্ট হাউজ পরে হাইকোর্ট ভবনে (পুরাতন) রূপান্তরিত হয়। গভর্নমেন্ট হাউজের পাশে মিন্টো রোড এলাকায় পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং হাইকোর্টের বিচারকদের বসবাসের জন্য বেশ কিছু সুন্দর ও উন্নতমানের ভবন তৈরি করা হয়। বৃহত্তর রমনা এলাকায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এলাকাটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। পাকিস্থান আমল ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরও রমনা ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবেই থেকে যায়। শাহবাগ থেকে ইডেন বিল্ডিং (সচিবালয়) পর্যন্ত নতুন একটি রাস্তা করা হয় এবং এই রাস্তার পূর্বদিকের অংশে রমনা পার্ক নামে একটি চমৎকার বাগান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানের সুপ্রীম কোর্ট ভবনের উত্তর-পূর্ব কোণের চিড়িয়াখানাটি তখনও বিদ্যমান ছিল। তবে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের মধ্যে ছিল শুধু গুটিকয়েক বাঘ, ভালুক এবং বিভিন্ন জাতের কিছু পাখি। পরে চিড়িয়াখানাটি মীরপুরে তার বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেল থেকে মুক্তি পেলে রমনা রেসকোর্সে তাঁকে এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া এবং এখানেই তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ রমনা রেসকোর্সে এক মহাসমাবেশের আয়োজন করে এবং এই সমাবেশে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যগণ প্রকাশ্যভাবে জনসভায় শপথ গ্রহণ করেন যে, কোন অবস্থাতেই এমনকি পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের চাপের মুখেও তাঁরা বাংলার মানুষের স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ আবার এই রমনাতে এক মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত দেশের স্বাধীনতাই ঘোষণা করেন। ৯ মাস বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে এবং রমনা মাঠেই (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যগণ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটি বাংলাদেশের বিজয় দিবস। এই ঘটনার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বক্তব্য রাখেন। এ সময় থেকে রমনা রেসকোর্স গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক সমাবেশের স্থানে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা কালী মন্দির সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। খোলা-বন্ধের সময়সূচী সপ্তাহের প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই উদ্যান। এই উদ্যানে প্রবেশ করতে কোন প্রকার চার্জ দিতে হয় না। এছাড়া রাত দশটার পর উদ্যানে থাকা নিরাপদ নয়। সময়ের সাথে পরিবর্তন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেসব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা নিম্নরুপ- ক) ১৬১০ সালে ঢাকার নবাবগণ রমনা এলাকায় এ সুদৃশ্য উদ্যানের সূচনা করেন। খ) ১৬১০ থেকে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত এর নাম ছিল বাগ-ই-বাদশাহী বা বাদশাহী বাগান। গ) ১৯২৫ সালে এ স্থানটি ঘোড়দৌড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল তাই এর নাম হয় রেসকোর্স ময়দান ইতিহাসের সাক্ষী ক) ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ উদ্যানে/ ময়দানে ঘোষনা করেন উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। খ) ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে এখানে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেওয়া হয়। গ) ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এই উদ্যানের মাঠেই ঐতিহাসিক ভাষন দেন “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ঘ) ১৯৭১ সালের ২৫,২৬ ও ২৭ শে মার্চ এ উদ্যানের ভিতরে অবস্থিত। কালী মন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রমের সন্ন্যাসী ও অধিবাসীরা গনহত্যার শিকার হন ও মন্দিরের আশ্রম ধ্বংশ করা হয়। ঙ) ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক ও ময়দানেই পাক বাহিনী ৯৩,০০০ হাজার সৈন্য নিয়ে যৌথবাহিনীর কাছে লিখত ভাবে আত্মসমর্পন করেন। পাক বাহিনীর পক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্ম সমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল নিয়াজী। চ) ১৯৭১ সালে এই উদ্যানটির নামকরন করা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ছ) ১৯৯৭ সালে এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়। জ) ১৯৯৯ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্মৃতি জাদুঘর নির্মান কাজ শুরু করা হয়। বর্তমান অবস্থা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বর্তমানে নানা রকম সংস্কার কাজ চলছে তম্মধ্যে উদ্যানের স্বাধীনতা স্মৃতি জাদুঘর, স্বাধীনতা মঞ্চ, শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও আমন্দময়ী আশ্রম পূনঃ সংস্কার, দিঘি সংস্কার, রাস্তা, মূল ফটক সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রবেশ ও বাহির সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল প্রবেশ পথ ছয়টি। যেমন- ক) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনষ্টিটিউশন সংলগ্ন গেইট। খ) শিশু পার্ক ও শিখা চিরন্তন সংলগ্ন গেইট। গ) চারুকলা ইনষ্টিটিউটের বিপরীতে অবস্থিত গেইট। ঘ) টি.এস.সি সংলগ্ন গেইট। ঙ) শ্রী শ্রী মা কালী আনন্দময়ী আশ্রম সংলগ্ন গেইট। চ) বাংলা একাডেমীর বিপরীত ও তিন নেতার মাজার সংলগ্ন গেইট। বেশী ভিড় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে বেশী ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ঈদ,পূজা ও পহেলা বৈশাখ, নববর্ষ ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে প্রচুর ভীড় হয়। পার্কের প্রাঙ্গন সমূহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুরো অংশটিতে বিভিন্ন প্রাঙ্গন আছে। এখানে সব ধরনের মানুষ বেড়াতে আসে। পার্কের প্রত্যেকটি প্রাঙ্গনের বিশেষত্ব আছে। প্রাঙ্গনগুলো হল- বৃক্ষছায়া, বৃক্ষমায়া, বটতলা, চারু অঙ্গন, শিখা চিরন্তনি, আনন্দময়ী অঙ্গন, দীঘির পাড়, লালন চর্চা অঙ্গন, জাদুঘর অঙ্গন, লেক ভিউ, শতায়ু অঙ্গন। পার্কে প্রাপ্ত দূর্লভ ও সাধারণ বৃক্ষ সমূহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মূলত ঢাকার নবাবদের বাগান ছিল। ঢাকা পূর্ববঙ্গের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার নবাবগণ রমনা এলকায় এই সুদৃশ্য উদ্যানের সূচনা করেন। এখানে সাধারন বৃক্ষ ছাড়াও দূর্লভ প্রজাতির গাছ শোভাবর্ধক গাছও আছে। পার্কে দূর্লভ বৃক্ষসমূহের মধ্যে অন্যতম হল- শিমুল, কড়াই, বট, মেহগনি, অর্জুন, গর্জন, গেওয়া, আমলকি, তেতুঁল, হরিতকি, নিম গাছ, বেল গাছ, কদম ও বহেরা ইত্যাদি ছাড়াও কাঁঠালচাপা, কৃষ্ণচূড়া শোভাবর্ধক ফুল গাছ এবং অন্যান্য সাধারণ বৃক্ষতো আছেই। ফুড কর্ণার ও রেস্তোরা পার্কে স্থায়ী কোন রেষ্টুরেন্ট নেই। রয়েছে ভ্রাম্যমান কিছু খাবারের দোকান। এই দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারন ফাষ্টফুড জাতীয় দোকান, পিঠার দোকান, দই ও মিষ্টির দোকান, চা, বিস্কুট, কলা ও অন্যান্য দোকান, কোমল পানীয় ও কফি শপ এবং চটপটি ও ফুচকা। উদ্যানের বিভিন্ন স্থাপনা ১৯৭৫ সালের পর এলাকাটিকে সবুজে ঘেরা পার্কে পরিণত করা হয়। পার্কের একপাশে শিশুদের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্র তথা পার্ক গড়ে তোলা হয়। এখানে শিশুদের জন্য নানা ধরনের আকর্ষণীয় খেলাধুলা, খাবার রেস্তোরঁা এবং ছোটখাটো স্মারক জিনিসপত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে এখানে ‘শিখা চিরন্তন’ স্থাপন করা হয়েছে এবং একইসাথে তার পাশেই যেখানে পাকিস্তানি সেনাগণ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে স্বাধীনতা টাওয়ার। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দেআওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এখানে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও শিখা চিরন্তন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জনতার দেয়াল নামে ২৭৩ ফুট দীর্ঘ একটি ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র। এটি ইতিহাসভিত্তিক টেরাকোটার পৃথিবীর দীর্ঘতম ম্যুরাল। এর বিষয়বস্তু ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খনন করা হয়েছে একটি কৃত্রিম জলাশয় বা লেক। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে চারদলীয় জোট সরকার-এর শাসনামলে আমলে উদ্যানের ভেতর ঢাকা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা সংবলিত একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা ও এর রক্ষনাবেক্ষনের জন্য নিরাপত্তা প্রহরী ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন। কোন রকম আপ্রীতিকর সমস্যা যেন না হয় সেজন্য সর্বদা টহলরত অবস্থায় থাকেন। হকার ও বিক্রিত দ্রব্যাদি উদ্যানে অসংখ্য হকারের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এসকল হকাররা ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য উপকরন বিক্রি করে থাকে। বিক্রিত দ্রব্যদিগুলো হলো আইসক্রিম, চা-কফি, বাদাম, ঝালমুড়ি, ফুল ও মালা, পপকর্ন, আমড়া, আচার, পাপড় ভাজা, চকলেট মিমি, বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী এবং চানাচুর ভাজা। বিব্রতকর পরিস্থিতি দর্শনার্থী তথা সর্বসাধারনের জন্য উম্মুক্ত হওয়ায় এখানে সাধারণত নানা রকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে পারেন। যেমন- ভিক্ষুক ও সাধারন পকেটমার, বেদেনি, পথশিশু ও কুকুর। এছাড়া এখানে তেমন কোন সমস্যা নেই। তত্ত্বাবধায়নকারী কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন তথা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। গাড়ি পার্কিং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্দিষ্ট কোন পার্কিং ব্যবস্থা নেই। তবে ভেতরে গাড়ি প্রবেশ করানো যায়। এজন্য কোন পার্কিং চার্জ নেই। ফ্লাড লাইট ও বসার স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রাত ১০ টা পর্যন্ত সন্ধ্যাকালীন ভ্রমনকালীন ও দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তাই এখানে পর্যাপ্ত আলোর জন্য ফ্লাড লাইট ও স্পট লাইট সহ অন্যান্য লাইটের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া পুরো উদ্যানে বসার জন্য পাকা বেঞ্চের ব্যবস্থা আছে। এবং নির্দিষ্ট দুরত্ব পরপর ছাউনী আছে। এছাড়া পুরো উদ্যানে কয়েকস্তরে ওয়াকওয়ে আছে। সতর্কতা ও নিয়মাবলী ক) রাত ১০ টার পর উদ্যানে প্রবেশ নিষেধ। খ) উদ্যানে অসামাজিক কার্যকলাপ দন্ডনীয় অপরাধ। গ) ভেতরে ধুমপান মুক্ত এলাকা। ধুমপান নিশেধ। ঘ) গাছের পাতা ও ফুল ছেঁড়া নিষেধ। ঙ) লেকের পানি ময়লা ফেলবেন না। চ) নির্দিষ্ট ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটু্ন। স্বাস্থ্য সেবা প্রাতঃ ও বৈকাল ভ্রমনকারী তথা সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এখানে ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম এর ব্যবস্থা আছে। এজন্য নির্দিষ্ট হারে খরচ পড়বে। স্বাস্থ্য সেবা সমূহ- রক্ত পরীক্ষা, প্রেসার মাপা, ওজন মাপা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং উচ্চতা মাপা। প্রতিদিন বিকাল ৪ টার পর উদ্যানে এ স্বাস্থ্য সেবা সুবিধা পাওয়া যাবে।




 সাম্পতিক ঘটনাবলী ১। অপরাধ অপকর্ম ও অশ্লীলতার স্বর্গরাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ২। অরক্ষিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ৩। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছারখার : সন্ধ্যার পর অন্য জগতে পরিণত ৪। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাদকের আখড়া! তথ্যসূত্র ১। উইকিপিডিয়া ২। www.online-dhaka.com ৩। গুগল

Thursday, June 20, 2013

হাসপাতাল, ব্ল্যাড ব্যাংক ও এ্যাম্বুলেন্স এর কিছু অতি প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর


হাসপাতাল, ব্ল্যাড ব্যাংক ও এ্যাম্বুলেন্স এর কিছু অতি প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর যা যে কোন সময় প্রয়োজন হতে পারে




যেকোনো সময় আপনার পরিবারের সদস্য বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য প্রয়োজন হতে পারে চিকিত্সা সেবা প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর। আপনাদের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এ আয়োজন

হাসপাতাল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল :৮৬২৬৮১২-৯ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় : ৮৬১২৫৫০-৪, ৮৬১৮৬৫২-৯, ৯৬৬১০৫১-৬৫

ঢাকা শিশু হাসপাতাল :৯১১৯১১৯, ৮১১৬০৬১-২

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৯১১৮১৭১ 

জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৮৮২৬৬১৫ 

জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৯১২২৫৬০-৭২ 

জাতীয় চক্ষুরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৮১১৪৮০৭ 

বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৮৮১৬২৬৮-৭২, ৯৮৯৯৪২২-৩

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল :৯১৩০৮০০, ৯১২২৫৬০-৭৮

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল :৭৩১৯০০২-৬, ৭৩১৯৯৩৫, ৭৩১০০৬১-৬৪

কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র :৯৮৮০২৬৯

জাতীয় বাতজ্বর ও হূদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র :৯১২৩৭২২

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল :৯৬৭১১৪১-৩, ৯৬৭১১৪৫-৭ 

বারডেম হাসপাতাল :৯৬৬১৫৫১-৬০, ৮৬১৬৬৪১-৫০ 

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল :৭১১৩৪৬৯, ৭১১৭৩০০

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল :৯১১৯৩১৫, ৮১১২৮৫৬ 

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) :৮৮১১৭৫১-৬০, ৮৮৬০৫২৩-৩২ জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান :৯১১৪০৭৫, ৯১১২১৫০

আজিমপুর মাতৃসদন :৮৬২৪৮২৭, ৮৬২৪৯৮০

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট :৮০৯৩৯৩৫, ৮০৫৩৯৩৬, ৮০৬১৩১৪-৬ 

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) : ৮১১৪৬৬৬-৭৫, ৮৮২২৭৭৯, ৯৮৭০০১১

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল :৯১১৮২০২

স্কয়ার হাসপাতাল :৮১৪১৫২২, ৮১৪২৪৩১, ৮১৪৪৪০০, ৮১৪২৩৩৩

অ্যাপোলো হাসপাতাল :৮৪০১৬৬১, ৮৪০১৬৮০, ৮৪০১৬০০

শমরিতা হাসপাতাল :৯১৩১৯০১

ইউনাইটেড হাসপাতাল :৮৮৩৬০০০, ৮৮৩৬৪৪৪

সেন্ট্রাল হাসপাতাল :৯৬৬০০১৫-১৯

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল :৮৩১১৭২১-৫

আল রাজী হাসপাতাল :৮১১৯২২৯, ৯১১৭৭৭৫, ৮১২১১৭২, ৯১৩৩৫৬৩-৪

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল :৯৩৫৫৮০১-২, ৯৩৫৫৯৩৭-৮

জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল :৮৮২৭৫৭৫, ৮৮২৮৮৫৫ 

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল :৮৬১৭২০৮, ৯৬৭৩৫১২, ৯৬৭৩৫০৭, ৮৬১৭৩৮৩

দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল :৮১২৪৯৫২

মনোয়ারা হাসপাতাল: ৮১৩৮১৩৫, ৮৩১৯৮০২, ৮৩১৮৫২৯

সিটি হাসপাতাল :৮১৪৩১৬৬-৭

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম :৯৩৩৬৬১১

আদ-দ্বীন হাসপাতাল :৯৩৬২৯২৯

আল মারকাজুল ইসলামী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস :৯১২৭৮৬৭, ৮১১৪৯৮০

আলিফ মেডিকেল সার্ভিসেস :৮১১৭৫৭৬, ৯১৩১৬৮৮



ব্লাড ব্যাংক


স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ব্লাড ব্যাংক :৭৩১৯১২৩

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন :৯৩৫১৯৬৯, ৮৩২২৯৮৭, ৯৩৪১৪৪১, ৮৩১৯৩৭৭

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল - ব্লাড ব্যাংক: ৮৩১৭০৯০, ৮৩২১৪৯৫

রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক :৯১১৬৫৬৩, ৮১২১৪৯৭

চক্ষু ব্যাংক

সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংক :৯১২৪৩৫৩

সন্ধানী ঢাকা ডেন্টাল কলেজ শাখা :৯০১১৮৮৭

সন্ধানী ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা :৯৬৬৮৬৯০, ৮৬১৬৭৪৪

অসুখ কখনও বলে কয়ে আসে না। হয়তো গভীর রাতে একজন সুস্থ লোক হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেল, দ্রুত হাসপাতালে নেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স দরকার, কিন্তু কোথায় পাবেন? এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা হলো যে, এক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অন্য হাসপাতাললের রোগী বহন করে না। তখন আপনার এ অসহায় অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স পেতে হলে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অথবা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের বিভিন্ন শাখায় যোগাযোগ করার ফোন নম্বর নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স (প্রধান কার্যালয় ঢাকা): 

ফোন নম্বর:

*9555555

* 955666

* 955667

* 9567733

* 233333

* 233334

* 9567734

* 9566980

* 9566981

* 9566982

মোহাম্মদপুর (ঢাকা):

* 91122078

টঙ্গী (ঢাকা): 9801070

আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম

ঢাকার ভেতরে রোগী বহন করলে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কোন চার্জ নেয় না। ঢাকা জেলার বাইরে রোগী বহন করতে হলে 1500 টাকা ডোনেশান সহ আসা-যাওয়ার তেল খরচ রোগী পক্ষকে বহন করতে হয়। নিচে তাদের ফোন নং উল্লেখ করা হলো:

* আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম (প্রধান কার্যালয়) 5, এস.কে. দাশ রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা। ফোন নং: 9248166, 9239808

* কাকরাইল, ঢাকা অফিস: 9336611

Tuesday, March 13, 2012

বিএনপির ছিল কর্মীসভা, আমাদের হবে জনসভা


 বিরোধী দলের বড় জনসভার একদিন পর ঢাকার সমাবেশে বিপুল কর্মী-সমর্থক জড়ো করে নিজেদের শক্তি তুলে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বুধবার ১৪ দলের এই গণজমায়েতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সব নেতাদের থাকতে বলা হয়েছে। যে নেতা থাকবেন না, তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সমাবেশের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক সভা হয়। সভায় বিরোধী দলের সোমবারের সমাবেশকে ‘কর্মীসভা’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “কালকেরটি (বুধবার) হবে জনসভা। দক্ষিণে সদরঘাট, উত্তরে পল্টন এবং পশ্চিমে প্রেসক্লাব পর্যন্ত লোক হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার নয়া পল্টনে খালেদা জিয়ার সমাবেশে ২ লাখ জনসমাগম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, পদে পদে বাধা উপেক্ষা করেই তাদের ওই সমাবেশ করতে হয়েছে।

ওই সমাবেশের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৪ দল ঢাকায় সমাবেশ করছে।

বুধবারের জনসভার মঞ্চ তৈরি হয়েছে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সাংবাদিকদের জানান, জনসভার মাইক দক্ষিণে কাপ্তান বাজার, উত্তরে বিজয়নগর, পূর্বে দৈনিক বাংলা মোড় এবং পশ্চিমে প্রেসক্লাব পর্যন্ত থাকবে।

মূল জনসভা শুরু হবে বেলা ৩টা থেকে। তবে দুপুর ১২টা থেকেই মঞ্চে গণসংগীত পরিবেশন শুরু হবে।

থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবেন।”

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “প্রমাণ হবে, কাদের লোক বেশি। কালকের স্লোগান হবে ‘ছাড়ো ছাড়ো ঢাকা ছাড়ো’। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত শুধু মানুষ আর মানুষ দেখতে চাই।”

থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যে সব নেতা জনসভায় উপস্থিত থাকবেন না, তাদের শো-কজ করা হবে বলে সভায় সতর্ক করে দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

Thursday, March 8, 2012

I'm In Dhaka city


Dear Friends,
I'm the man of Bagerhat.একটা সামান্ন্য চাকরী করি বলে ঢাকায় থাকি। ঢাকা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি। নোঙরা, ময়লা, আবর্জনার শহর। জানজট আর ধুলার শহর। প্রন্তিক এবং হতদরিদ্র লোকের শহর। 


তবে সব কিছুই খারাপ না। অনেক ভালো গুন ও রয়েছে।


এই ভালো এবং খারাপ এ বিষয়গুলো সকলর সাথে ভাগ করার লক্ষে আমার ঢাকা শহর নিয়ে এই ব্লগ।


ভালো খারাপ যাই লাগুক আমাকে জানালে কৃতঘ্ন খাকবো।


Masum
Elephant Road, Dhaka.

ডিজিটাল সরকার


মাত্র দু’টি বিষয়ের প্রতি প্রিয় পাঠক, আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিষয় এক : উপদেষ্টা পরিষদ-
পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা প্রয়োজনে সরকারকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। তবে তারা কখনোই সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন না। এ কাজ, মুখ্য প্রেসসচিব কিংবা স্ব স্ব দফতরের মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রীদের। উপদেষ্টারা কখনোই মন্ত্রীদের কাজকর্মে নাক গলাতে যান না। ফলে বিদেশে কখনোই দেখা যায় না যে, মন্ত্রীদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

দুঃখের বিষয় যে, আমাদের দেশেও সরকার পরিচালনার জন্যে দু’টো পরিষদ রয়েছে। একটি মন্ত্রী পরিষদ এবং অন্যটি উপদেষ্টা পরিষদ। দু’টো পরিষদই প্রধানমন্ত্রীর অধীন। মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশই জনগণের ভোটে নির্বাচিত আর উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর করুণায় চাকরিপ্রাপ্ত। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের দেশে তারাই যেন ‘ইনভিজিবল গভর্নমেন্ট’। এইসব উপদেষ্টা নামের কথিত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই (অব.) আমলা বা (অব.) সামরিক কর্তা বা (অব.) চিকিৎসক। প্রধানমন্ত্রী এক অজানা কারণে এইসব অনির্বাচিত অব.দের উপরই বেশি নির্ভরশীল। আর এই আমলা-নির্ভরতার কারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রমান্বয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনে উপদেশ দেবার পরিবর্তে মিডিয়ার সামনে অপ্রয়োজনে প্রতিটি ব্যাপারে ‘বকর-বকর’ করে যাচ্ছেন। যা তাদের কর্তব্যের আওতায় পড়ে না। অনির্বাচিত হয়েও তাঁরা মন্ত্রণালয় এমন কি মন্ত্রীর উপর  ‘খবরদারি’ করার ধৃষ্টতা দেখান। এতে দেশ, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অন্তরায়। এর মধ্যে দু’একজন এমন  ‘বেকুবি ভাষায়’ কথা বলেন যে, শুনলে মনে হয় ‘ব্যাটা অন্যদেশের উপদেষ্টা আমাদের দেশের নয়’। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার অপ্রয়োজনীয় অতিকথন তালিকার শীর্ষে। তবে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন  (অব.) আমলা উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। হেন বিষয় নেই যে বিষয়ে তিনি  ‘বাণী’ দিচ্ছেন না। সর্ব বিষয়ে তাঁর বাগাড়ম্বর-প্রিয়তা দেখে মনে হয় যে, তিনি আমাদের দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী!

এদের প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে ‘বাঁদর যেমন লাই পেলে মাথায় উঠে নাচে’ উপদেষ্টারাও তেমনি একটি নির্বাচিত সরকারের মাথার উপর উঠে নেচে চলেছেন।

অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের ‘বাঁদরনাচে’ আমার আপত্তি নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচিত না হয়েও এরা যখন নির্বাচিত হয়ে আসা মন্ত্রীদের উপর ছড়ি ঘোরান। দুঃখ হয় যখন দেখি,  ‘দে পুট দেয়ার ডার্টি নোজ এভরিহোয়ার!’ আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে? গওহর রিজভী না দীপু মনি? সঠিক উত্তর যদি দীপু মনি হয় তাহলে রিজভী সাহেবকে মিডিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্র বিষয়ে এত কথা বলার অনুমতি কে দিয়েছে? উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেয়া। মিডিয়ার সামনে এসে বকবক করা নয়। যদি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী কাউকে বিদেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে পাঠান- দেশে ফিরে এসে তার উচিত প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা অবহিত করা। তার আগেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে কি?

এবং দুই :
মিডিয়ার কথা উঠলো যখন- একটা কথা বলা খুব সঙ্গত মনে করছি। পত্রিকায় দেখলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের বুদ্ধিজীবী কিছু কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক-সম্পাদককে এক বৈকালিক ‘আড্ডায়’ ডেকেছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন- [আমন্ত্রিতদের তালিকা দেখে মনে হল] এরা বলতে গেলে সবাই আওয়ামী ঘরানার। এদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের  ‘খয়ের খাঁ’ আর প্রধানমন্ত্রীর  ‘জ্বি আপা’ টাইপ বুদ্ধিজীবী। বিএনপিপন্থি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মতো দু’একজনকে রাখা হয়েছে জাস্ট  ‘শো-পিস’ হিসেবে। আমি  ‘রোম পুড়ে যাচ্ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে’ কি বাজাচ্ছে না তা বলছি না বরং বিস্মিত হয়েছি দেখে যে, প্রায়  ‘যাই-যাই সময়’-এ এসে প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ মনে পড়লো  ‘এই শ্রেণীর লোকদের’ সঙ্গে দেখা করা দরকার! প্রধানমন্ত্রীর চারপাশ ঘিরে এখন প্রেতের নৃত্য, সদা চাটুকার পরিবেষ্টিত প্রধানমন্ত্রী টেরও পাচ্ছেন না যে, তাঁকে ঘিরে নৃত্য করে চলেছে অমাবস্যার কালো অন্ধকার। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করছি না তবে এই ধরনের আন্তরিকতা আরো আগে দেখানো কি জরুরি ছিল না? ছিল। তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, একজন প্রাক্তন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিডিয়া তথা দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি অদৃশ্য ‘দেয়াল’ তুলে দিয়েছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের তৈরি হয়েছে এক অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগপ্রাপ্ত এক ‘বিশেষ সহকারীর’ প্রচেষ্টায় এই ‘দূরত্ব’ বিমোচন আর  ‘বরফ গলানো’র উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার যোগসূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈকালিক  ‘আড্ডা’। তবে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের  ‘লিস্ট’ বানানোর ক্ষেত্রেও কলকাঠি নাড়িয়েছেন অই গুণধর প্রাক্তন সাংবাদিক।

প্রধানমন্ত্রীর এই তথাকথিত  ‘আড্ডায়’ কাকে ডাকা হবে আর কাকে ডাকা হবে না তা-ও নির্ধারণ করেছেন এই প্রাক্তন সাংবাদিক। আমন্ত্রণের জন্যে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের  ‘অম্ল-মধুর-মাদকতা’ প্রাধান্য পেয়েছে। আর এই কারণেই আমন্ত্রণ পাননি এদেশের বরেণ্য কথা সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অনেকেই।  প্রধানমন্ত্রী দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন অথচ তাঁর তলপিবাহকের একি  ‘এনালগ’ আচরণ!


স্বাধীনতার মাসে উত্তপ্ত রাজধানী


মহান স্বাধীনতার মাসে উত্তপ্ত রাজধানী। অতীতের যেকোনো সময় বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এবারের মহাসমাবেশগুলোর তাৎপর্য ভিন্ন। বেশির ভাগ সমাবেশের দাবি অধিকার আদায়ের।

সমাবেশগুলোর ভিন্নতা হলো- এই প্রথম সাংবাদিক সমাজ ন্যায় বিচারের দাবি নিয়ে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছেন। সোমবার ফেনীর উদ্দেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে লংমার্চ চলছে।

৭ মার্চ খোদ শাসকদল আওয়ামী লীগের গণমিছিল। গণমিছিলের দাবি হলো- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা।

১২ মার্চ বিরোধীদলের ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। লক্ষ্য- তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি। ১৪ মার্চ বামদলগুলোর মহাসমাবেশ। দাবি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ১৮ মার্চ সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ। দাবি হলো- সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের। স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষ দু’বেলা-দু’মুঠো ভাত খেয়ে শান্তিতে নিদ্রা যাবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর খুন হন আরেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের সঙ্গে একমঞ্চে বক্তব্যও দিয়েছেন। এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বিএনপি জামায়াত নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন জিয়া ও এরশাদ। জিয়ার খুনিদের আংশিক বিচার হলেও পরিপূর্ণ বিচার হয়নি। ৯ বছর দেশ শাসন করেছেন সামরিক শাসক এরশাদ। দুই নেত্রী মিলে এরশাদকে জেলে পুরেছেন। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এরশাদকে কাছেও টানা হয়েছে।

দুই নেত্রীকে জেলে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যারা ছিলেন তাদের মাঝে অনেকে এখনো রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় চলছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ২৯ দিন অসহযোগ আন্দোলন করেছেন তারাই এখন বলছেন তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই।

যারা এক সময় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি- তারাই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছেন।

তবে দুঃখের বিষয় হলো- ক্ষমতাসীন দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছেন রাজপথে। রাষ্ট্রযন্ত্র যাদের হাতে তাদের আন্দোলন কিসের জন্য? কিসের দাবিতে এবং কেন? যুদ্ধাপরাধের বিচরের দাবিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ। এই বিচারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবেন তাদের জাতি কোন দৃষ্টিতে দেখে তা সবাই জানে।

যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে জনমত চলে যাবে এটি স্পষ্ট। বিরোধীদল যদি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই নামবে।

কিন্তু বর্তমানে বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে জনগণের যেমন সমর্থন রয়েছে তেমনি সমর্থন আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে।

দুই দলই বলছে, জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। সত্যি জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু ভিন্ন ইস্যুতে। দেশের রাজনীতির ঘুটি মূলত: কয়েকজনের হাতে। এদিকে সব ভবনেই জনগণ আছে। একবার এই ভবন আরেকবার ওই ভবন। ভবনভিত্তিক ক্ষমতার জন্য জনগণ এখন জিম্মি। গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায় তা যেন দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে।

আন্দোলনের নমুনা দেখে মনে হয়, সরকারি দল, বিরোধীদলসহ সবাই আন্দোলনে। আন্দোলন আর আন্দোলন। চারিদিকে এখন আন্দোলনের ডামাডোল। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র অথচ চলছে চতুর্মুখী আন্দোলন।

সরকারি দল ও বামদলের আন্দোলন বিচারের দাবিতে। বিরোধীদলের আন্দোলন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। এরশাদের আন্দোলন সার্বভৌমত্ব রক্ষার। জামায়াতের আন্দোলন আত্মরক্ষার।

সরকারের উচিৎ হবে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে ঠেলে না দেওয়া। অর্থাৎ বিরোধীদলের আন্দোলনের গতিবৃদ্ধি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না দেওয়া। সাংবাদিকরা রাজনীতি করে না। অবশ্য অনেকে পরোক্ষভাবে রাজনীতি করেন।

সাগর-রুনির লাশ বিভক্ত সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হবার পথের সন্ধান দিয়েছে। আশাকরি সাংবাদিক সমাজ এই একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হবে। কারণ দেরিতে হলেও সাংবাদিকরা বুঝতে পেরেছে, তাদের রাজনীতিতে যাওয়া ঠিক নয়।

কারণ রাজনীতি করলে দেশ ও জনগণের জন্য কথা বলা কষ্ট হবে এই জন্য যে, রাজনীতিবিদরা এখন জনগণ ও রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ভালবাসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে। আমরা জানি, সুনির্দিষ্ট স্বার্থরক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকলে সত্য বলা মুশকিল হয়। যতদিন পর্যন্ত মুষ্টিমেয় সাংবাদিক রাজনৈতিক খোলস থেকে বের হতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্র ও জনগণ শান্তির আশা করতে পারবে না।

আশা করব- সাংবাদিকদের যাতে মহাসমাবেশ করতে না হয় সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবেন। আমরা চাই একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র যেখানে গণতন্ত্র থাকবে। মানুষের মানবাধিকার, ন্যায় বিচার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকবে।

নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন। তবে আর কাউকে বলতে হবে না- পালাবার পথা খুঁজে পাবেন না।