Tuesday, March 13, 2012

বিএনপির ছিল কর্মীসভা, আমাদের হবে জনসভা


 বিরোধী দলের বড় জনসভার একদিন পর ঢাকার সমাবেশে বিপুল কর্মী-সমর্থক জড়ো করে নিজেদের শক্তি তুলে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বুধবার ১৪ দলের এই গণজমায়েতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সব নেতাদের থাকতে বলা হয়েছে। যে নেতা থাকবেন না, তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সমাবেশের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক সভা হয়। সভায় বিরোধী দলের সোমবারের সমাবেশকে ‘কর্মীসভা’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “কালকেরটি (বুধবার) হবে জনসভা। দক্ষিণে সদরঘাট, উত্তরে পল্টন এবং পশ্চিমে প্রেসক্লাব পর্যন্ত লোক হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার নয়া পল্টনে খালেদা জিয়ার সমাবেশে ২ লাখ জনসমাগম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, পদে পদে বাধা উপেক্ষা করেই তাদের ওই সমাবেশ করতে হয়েছে।

ওই সমাবেশের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৪ দল ঢাকায় সমাবেশ করছে।

বুধবারের জনসভার মঞ্চ তৈরি হয়েছে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সাংবাদিকদের জানান, জনসভার মাইক দক্ষিণে কাপ্তান বাজার, উত্তরে বিজয়নগর, পূর্বে দৈনিক বাংলা মোড় এবং পশ্চিমে প্রেসক্লাব পর্যন্ত থাকবে।

মূল জনসভা শুরু হবে বেলা ৩টা থেকে। তবে দুপুর ১২টা থেকেই মঞ্চে গণসংগীত পরিবেশন শুরু হবে।

থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবেন।”

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “প্রমাণ হবে, কাদের লোক বেশি। কালকের স্লোগান হবে ‘ছাড়ো ছাড়ো ঢাকা ছাড়ো’। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত শুধু মানুষ আর মানুষ দেখতে চাই।”

থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যে সব নেতা জনসভায় উপস্থিত থাকবেন না, তাদের শো-কজ করা হবে বলে সভায় সতর্ক করে দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

Thursday, March 8, 2012

I'm In Dhaka city


Dear Friends,
I'm the man of Bagerhat.একটা সামান্ন্য চাকরী করি বলে ঢাকায় থাকি। ঢাকা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি। নোঙরা, ময়লা, আবর্জনার শহর। জানজট আর ধুলার শহর। প্রন্তিক এবং হতদরিদ্র লোকের শহর। 


তবে সব কিছুই খারাপ না। অনেক ভালো গুন ও রয়েছে।


এই ভালো এবং খারাপ এ বিষয়গুলো সকলর সাথে ভাগ করার লক্ষে আমার ঢাকা শহর নিয়ে এই ব্লগ।


ভালো খারাপ যাই লাগুক আমাকে জানালে কৃতঘ্ন খাকবো।


Masum
Elephant Road, Dhaka.

ডিজিটাল সরকার


মাত্র দু’টি বিষয়ের প্রতি প্রিয় পাঠক, আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিষয় এক : উপদেষ্টা পরিষদ-
পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা প্রয়োজনে সরকারকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। তবে তারা কখনোই সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন না। এ কাজ, মুখ্য প্রেসসচিব কিংবা স্ব স্ব দফতরের মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রীদের। উপদেষ্টারা কখনোই মন্ত্রীদের কাজকর্মে নাক গলাতে যান না। ফলে বিদেশে কখনোই দেখা যায় না যে, মন্ত্রীদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

দুঃখের বিষয় যে, আমাদের দেশেও সরকার পরিচালনার জন্যে দু’টো পরিষদ রয়েছে। একটি মন্ত্রী পরিষদ এবং অন্যটি উপদেষ্টা পরিষদ। দু’টো পরিষদই প্রধানমন্ত্রীর অধীন। মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশই জনগণের ভোটে নির্বাচিত আর উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর করুণায় চাকরিপ্রাপ্ত। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের দেশে তারাই যেন ‘ইনভিজিবল গভর্নমেন্ট’। এইসব উপদেষ্টা নামের কথিত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই (অব.) আমলা বা (অব.) সামরিক কর্তা বা (অব.) চিকিৎসক। প্রধানমন্ত্রী এক অজানা কারণে এইসব অনির্বাচিত অব.দের উপরই বেশি নির্ভরশীল। আর এই আমলা-নির্ভরতার কারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রমান্বয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনে উপদেশ দেবার পরিবর্তে মিডিয়ার সামনে অপ্রয়োজনে প্রতিটি ব্যাপারে ‘বকর-বকর’ করে যাচ্ছেন। যা তাদের কর্তব্যের আওতায় পড়ে না। অনির্বাচিত হয়েও তাঁরা মন্ত্রণালয় এমন কি মন্ত্রীর উপর  ‘খবরদারি’ করার ধৃষ্টতা দেখান। এতে দেশ, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অন্তরায়। এর মধ্যে দু’একজন এমন  ‘বেকুবি ভাষায়’ কথা বলেন যে, শুনলে মনে হয় ‘ব্যাটা অন্যদেশের উপদেষ্টা আমাদের দেশের নয়’। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার অপ্রয়োজনীয় অতিকথন তালিকার শীর্ষে। তবে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন  (অব.) আমলা উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। হেন বিষয় নেই যে বিষয়ে তিনি  ‘বাণী’ দিচ্ছেন না। সর্ব বিষয়ে তাঁর বাগাড়ম্বর-প্রিয়তা দেখে মনে হয় যে, তিনি আমাদের দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী!

এদের প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে ‘বাঁদর যেমন লাই পেলে মাথায় উঠে নাচে’ উপদেষ্টারাও তেমনি একটি নির্বাচিত সরকারের মাথার উপর উঠে নেচে চলেছেন।

অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের ‘বাঁদরনাচে’ আমার আপত্তি নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচিত না হয়েও এরা যখন নির্বাচিত হয়ে আসা মন্ত্রীদের উপর ছড়ি ঘোরান। দুঃখ হয় যখন দেখি,  ‘দে পুট দেয়ার ডার্টি নোজ এভরিহোয়ার!’ আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে? গওহর রিজভী না দীপু মনি? সঠিক উত্তর যদি দীপু মনি হয় তাহলে রিজভী সাহেবকে মিডিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্র বিষয়ে এত কথা বলার অনুমতি কে দিয়েছে? উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেয়া। মিডিয়ার সামনে এসে বকবক করা নয়। যদি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী কাউকে বিদেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে পাঠান- দেশে ফিরে এসে তার উচিত প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা অবহিত করা। তার আগেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে কি?

এবং দুই :
মিডিয়ার কথা উঠলো যখন- একটা কথা বলা খুব সঙ্গত মনে করছি। পত্রিকায় দেখলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের বুদ্ধিজীবী কিছু কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক-সম্পাদককে এক বৈকালিক ‘আড্ডায়’ ডেকেছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন- [আমন্ত্রিতদের তালিকা দেখে মনে হল] এরা বলতে গেলে সবাই আওয়ামী ঘরানার। এদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের  ‘খয়ের খাঁ’ আর প্রধানমন্ত্রীর  ‘জ্বি আপা’ টাইপ বুদ্ধিজীবী। বিএনপিপন্থি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মতো দু’একজনকে রাখা হয়েছে জাস্ট  ‘শো-পিস’ হিসেবে। আমি  ‘রোম পুড়ে যাচ্ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে’ কি বাজাচ্ছে না তা বলছি না বরং বিস্মিত হয়েছি দেখে যে, প্রায়  ‘যাই-যাই সময়’-এ এসে প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ মনে পড়লো  ‘এই শ্রেণীর লোকদের’ সঙ্গে দেখা করা দরকার! প্রধানমন্ত্রীর চারপাশ ঘিরে এখন প্রেতের নৃত্য, সদা চাটুকার পরিবেষ্টিত প্রধানমন্ত্রী টেরও পাচ্ছেন না যে, তাঁকে ঘিরে নৃত্য করে চলেছে অমাবস্যার কালো অন্ধকার। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করছি না তবে এই ধরনের আন্তরিকতা আরো আগে দেখানো কি জরুরি ছিল না? ছিল। তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, একজন প্রাক্তন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিডিয়া তথা দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি অদৃশ্য ‘দেয়াল’ তুলে দিয়েছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের তৈরি হয়েছে এক অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগপ্রাপ্ত এক ‘বিশেষ সহকারীর’ প্রচেষ্টায় এই ‘দূরত্ব’ বিমোচন আর  ‘বরফ গলানো’র উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার যোগসূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈকালিক  ‘আড্ডা’। তবে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের  ‘লিস্ট’ বানানোর ক্ষেত্রেও কলকাঠি নাড়িয়েছেন অই গুণধর প্রাক্তন সাংবাদিক।

প্রধানমন্ত্রীর এই তথাকথিত  ‘আড্ডায়’ কাকে ডাকা হবে আর কাকে ডাকা হবে না তা-ও নির্ধারণ করেছেন এই প্রাক্তন সাংবাদিক। আমন্ত্রণের জন্যে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের  ‘অম্ল-মধুর-মাদকতা’ প্রাধান্য পেয়েছে। আর এই কারণেই আমন্ত্রণ পাননি এদেশের বরেণ্য কথা সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অনেকেই।  প্রধানমন্ত্রী দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন অথচ তাঁর তলপিবাহকের একি  ‘এনালগ’ আচরণ!


স্বাধীনতার মাসে উত্তপ্ত রাজধানী


মহান স্বাধীনতার মাসে উত্তপ্ত রাজধানী। অতীতের যেকোনো সময় বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এবারের মহাসমাবেশগুলোর তাৎপর্য ভিন্ন। বেশির ভাগ সমাবেশের দাবি অধিকার আদায়ের।

সমাবেশগুলোর ভিন্নতা হলো- এই প্রথম সাংবাদিক সমাজ ন্যায় বিচারের দাবি নিয়ে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছেন। সোমবার ফেনীর উদ্দেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে লংমার্চ চলছে।

৭ মার্চ খোদ শাসকদল আওয়ামী লীগের গণমিছিল। গণমিছিলের দাবি হলো- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা।

১২ মার্চ বিরোধীদলের ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। লক্ষ্য- তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি। ১৪ মার্চ বামদলগুলোর মহাসমাবেশ। দাবি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ১৮ মার্চ সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ। দাবি হলো- সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের। স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষ দু’বেলা-দু’মুঠো ভাত খেয়ে শান্তিতে নিদ্রা যাবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর খুন হন আরেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের সঙ্গে একমঞ্চে বক্তব্যও দিয়েছেন। এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বিএনপি জামায়াত নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন জিয়া ও এরশাদ। জিয়ার খুনিদের আংশিক বিচার হলেও পরিপূর্ণ বিচার হয়নি। ৯ বছর দেশ শাসন করেছেন সামরিক শাসক এরশাদ। দুই নেত্রী মিলে এরশাদকে জেলে পুরেছেন। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এরশাদকে কাছেও টানা হয়েছে।

দুই নেত্রীকে জেলে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যারা ছিলেন তাদের মাঝে অনেকে এখনো রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় চলছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ২৯ দিন অসহযোগ আন্দোলন করেছেন তারাই এখন বলছেন তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই।

যারা এক সময় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি- তারাই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছেন।

তবে দুঃখের বিষয় হলো- ক্ষমতাসীন দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছেন রাজপথে। রাষ্ট্রযন্ত্র যাদের হাতে তাদের আন্দোলন কিসের জন্য? কিসের দাবিতে এবং কেন? যুদ্ধাপরাধের বিচরের দাবিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ। এই বিচারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবেন তাদের জাতি কোন দৃষ্টিতে দেখে তা সবাই জানে।

যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে জনমত চলে যাবে এটি স্পষ্ট। বিরোধীদল যদি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই নামবে।

কিন্তু বর্তমানে বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে জনগণের যেমন সমর্থন রয়েছে তেমনি সমর্থন আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে।

দুই দলই বলছে, জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। সত্যি জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু ভিন্ন ইস্যুতে। দেশের রাজনীতির ঘুটি মূলত: কয়েকজনের হাতে। এদিকে সব ভবনেই জনগণ আছে। একবার এই ভবন আরেকবার ওই ভবন। ভবনভিত্তিক ক্ষমতার জন্য জনগণ এখন জিম্মি। গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায় তা যেন দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে।

আন্দোলনের নমুনা দেখে মনে হয়, সরকারি দল, বিরোধীদলসহ সবাই আন্দোলনে। আন্দোলন আর আন্দোলন। চারিদিকে এখন আন্দোলনের ডামাডোল। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র অথচ চলছে চতুর্মুখী আন্দোলন।

সরকারি দল ও বামদলের আন্দোলন বিচারের দাবিতে। বিরোধীদলের আন্দোলন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। এরশাদের আন্দোলন সার্বভৌমত্ব রক্ষার। জামায়াতের আন্দোলন আত্মরক্ষার।

সরকারের উচিৎ হবে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে ঠেলে না দেওয়া। অর্থাৎ বিরোধীদলের আন্দোলনের গতিবৃদ্ধি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না দেওয়া। সাংবাদিকরা রাজনীতি করে না। অবশ্য অনেকে পরোক্ষভাবে রাজনীতি করেন।

সাগর-রুনির লাশ বিভক্ত সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হবার পথের সন্ধান দিয়েছে। আশাকরি সাংবাদিক সমাজ এই একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হবে। কারণ দেরিতে হলেও সাংবাদিকরা বুঝতে পেরেছে, তাদের রাজনীতিতে যাওয়া ঠিক নয়।

কারণ রাজনীতি করলে দেশ ও জনগণের জন্য কথা বলা কষ্ট হবে এই জন্য যে, রাজনীতিবিদরা এখন জনগণ ও রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ভালবাসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে। আমরা জানি, সুনির্দিষ্ট স্বার্থরক্ষার বাধ্যবাধকতা থাকলে সত্য বলা মুশকিল হয়। যতদিন পর্যন্ত মুষ্টিমেয় সাংবাদিক রাজনৈতিক খোলস থেকে বের হতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্র ও জনগণ শান্তির আশা করতে পারবে না।

আশা করব- সাংবাদিকদের যাতে মহাসমাবেশ করতে না হয় সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবেন। আমরা চাই একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র যেখানে গণতন্ত্র থাকবে। মানুষের মানবাধিকার, ন্যায় বিচার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকবে।

নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন। তবে আর কাউকে বলতে হবে না- পালাবার পথা খুঁজে পাবেন না।

Sunday, March 4, 2012

অবশেষে মহাসমাবেশ মঞ্চ থেকে জোট সম্প্রসারণ!


সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ১২ মার্চ মহাসমাবেশ মঞ্চ থেকেই আসছে জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা। ওই দিনই সম্প্রসারিত নতুন জোটের নাম ঘোষণা করবেন বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

চারদলীয় জোট নেতা বিএনপি, তাদের জোট শরিক ও সমমনা দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জোট সম্প্রসারণে জোরালো আভাসই পাওয়া গেছে।

তারা এও জানিয়েছেন, জোট সম্প্রসারণের ঘোষণাপত্র তৈরি কাজ এরই মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ১২ মার্চই ওই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে।

বস্তুত দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা চার দলীয় জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি গ্রিন সিগন্যাল দেন বিএনপি প্রধান। ওই দিন গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠককালে ‘চল চল ঢাকা চল কর্মসূচির মঞ্চ থেকে জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে সমমনাদের আশ্বাস দেন তিনি।

সূত্রমতে, ১২ মার্চ ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচি সফল করতে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় চারদলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

ওই বৈঠকে ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা জোট সম্প্রসারণের বিষয়েও কেউ কেউ কথা বলেন। একই সঙ্গে জোট সম্প্রসারণে কালক্ষেপণ নিয়ে সমমনাদের মধ্যে বিরাজমান হতাশার বিষয়টিও খালেদা জিয়াকে অবহিত করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে চারদলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওই দিন রাতেই (২১ ফেব্রুয়ারি) সমমনা ১০টি দল অর্থাৎ- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল মালেক চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু, সাধারণ সম্পাদক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ আব্দুল মবিন, মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মজুমদার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, সাধারণ সম্পাদক এমএ রশিদ প্রধান ও ন্যাপ ভাসানীর সাধারণ সম্পাদক হাসরত খান ভাসানীর সঙ্গে বৈঠককালে খালেদা জিয়া নিজে থেকেই জোট সম্প্রসারণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

কেবল তাই নয়, আগামী ১২ মার্চ ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই সম্প্রসারিত নতুন জোটের নাম ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগে থেকে দেওয়া ঘোষণাপত্র তৈরির কাজও ১২ মার্চের মধ্যেই শেষ করার তাগিদ দেন খালেদা জিয়া।



এদিকে খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে সমমনাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কালক্ষেপণে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন তারা। সম্প্রসারিত নতুন জোটে নিজেদের ঠাঁই হচ্ছে-এমন আশায় বুক বেঁধেছেন সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতারা।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কাছ থেকে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পর চার দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর পাশাপাশি এলডিপি (অলি আহমেদ বীর বিক্রম, অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, আব্দুল মালেক চৌধুরী), জাগপা (শফিউল আলম প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান), এনপিপি (শেখ শওকত হোসেন নীলু, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ), বাংলাদেশ ন্যাপ (জেবেল রহমান গানি, এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (শায়েখ আব্দুল মবিন, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস), এনডিপি (খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, আলমগীর মজুমদার), বাংলাদেশ লেবার পার্টি-(ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদী), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (এএইচএম কামরুজ্জামান খান, আতিকুল ইসলাম), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, এম এ রশিদ প্রধান) ও ন্যাপ ভাসানী (শেখ আনোয়ারুল হক, হাসরত খান ভাসানী) সমমনা এই ১১ টি দলকেও ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচির জন্য গঠিত শৃঙ্খলা, আপ্যায়ন, প্রচার ও জনসংযোগসহ বিভিন্ন উপকমিটিতে রেখেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি।

এ ব্যাপারে এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু বলেন, ‘ম্যাডাম নিজে মুখে বলেছেন ১২ মার্চ মহাসমাবেশ মঞ্চ থেকে নতুন জোটের ঘোষণা দেবেন। তা ছাড়া মহাসমাবেশ সফল করার জন্য গঠিত উপকমিটিগুলোতে সমমনাদের স্থান দেওয়া দেখে মনে হচ্ছে ১২ মার্চ-ই জোট সম্প্রসারণ চূড়ান্ত হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন মহাজোটকে মোকাবেলার জন্য গত বছর জুলাই থেকে জোট সম্প্রারণের উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়া। পর্যায়ক্রমে বৈঠক করেন সাবেক রাষ্টপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান ডা. অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে।

এছাড়া গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের মতো জাতীয় নেতাদেরও সম্প্রসারিত নতুন জোটে আসার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

কিন্তু জামায়াতের সম্পৃক্ততা ও দলীয় আদর্শের কারণে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, ড. কামাল হোসেন খালেদার নেতৃত্বাধীন জোটে আসতে আগ্রহ দেখাননি। এর ফলে খালেদা জিয়াও জোট সম্প্রসারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত কমিটমেন্ট রক্ষায় জোট সম্প্রসারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বিএনপি প্রধানকে।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা


রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক সড়কে রোববার দুপুরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া দুই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাত প্রায় ২,০০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালের দিকে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় গড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা ও বিভিন্ন মার্কেট ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম  এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

শনিবার বনানীতে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ শিক্ষার্থী ও ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা গাড়ি ও মার্কেটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।


http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=95ec542f0dcae37a45422236452db6fe&nttl=0403201293426