Thursday, March 8, 2012

ডিজিটাল সরকার


By on 2:30 AM

মাত্র দু’টি বিষয়ের প্রতি প্রিয় পাঠক, আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিষয় এক : উপদেষ্টা পরিষদ-
পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা প্রয়োজনে সরকারকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। তবে তারা কখনোই সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন না। এ কাজ, মুখ্য প্রেসসচিব কিংবা স্ব স্ব দফতরের মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রীদের। উপদেষ্টারা কখনোই মন্ত্রীদের কাজকর্মে নাক গলাতে যান না। ফলে বিদেশে কখনোই দেখা যায় না যে, মন্ত্রীদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

দুঃখের বিষয় যে, আমাদের দেশেও সরকার পরিচালনার জন্যে দু’টো পরিষদ রয়েছে। একটি মন্ত্রী পরিষদ এবং অন্যটি উপদেষ্টা পরিষদ। দু’টো পরিষদই প্রধানমন্ত্রীর অধীন। মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশই জনগণের ভোটে নির্বাচিত আর উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর করুণায় চাকরিপ্রাপ্ত। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের দেশে তারাই যেন ‘ইনভিজিবল গভর্নমেন্ট’। এইসব উপদেষ্টা নামের কথিত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই (অব.) আমলা বা (অব.) সামরিক কর্তা বা (অব.) চিকিৎসক। প্রধানমন্ত্রী এক অজানা কারণে এইসব অনির্বাচিত অব.দের উপরই বেশি নির্ভরশীল। আর এই আমলা-নির্ভরতার কারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রমান্বয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনে উপদেশ দেবার পরিবর্তে মিডিয়ার সামনে অপ্রয়োজনে প্রতিটি ব্যাপারে ‘বকর-বকর’ করে যাচ্ছেন। যা তাদের কর্তব্যের আওতায় পড়ে না। অনির্বাচিত হয়েও তাঁরা মন্ত্রণালয় এমন কি মন্ত্রীর উপর  ‘খবরদারি’ করার ধৃষ্টতা দেখান। এতে দেশ, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অন্তরায়। এর মধ্যে দু’একজন এমন  ‘বেকুবি ভাষায়’ কথা বলেন যে, শুনলে মনে হয় ‘ব্যাটা অন্যদেশের উপদেষ্টা আমাদের দেশের নয়’। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার অপ্রয়োজনীয় অতিকথন তালিকার শীর্ষে। তবে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন  (অব.) আমলা উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। হেন বিষয় নেই যে বিষয়ে তিনি  ‘বাণী’ দিচ্ছেন না। সর্ব বিষয়ে তাঁর বাগাড়ম্বর-প্রিয়তা দেখে মনে হয় যে, তিনি আমাদের দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী!

এদের প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে ‘বাঁদর যেমন লাই পেলে মাথায় উঠে নাচে’ উপদেষ্টারাও তেমনি একটি নির্বাচিত সরকারের মাথার উপর উঠে নেচে চলেছেন।

অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের ‘বাঁদরনাচে’ আমার আপত্তি নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচিত না হয়েও এরা যখন নির্বাচিত হয়ে আসা মন্ত্রীদের উপর ছড়ি ঘোরান। দুঃখ হয় যখন দেখি,  ‘দে পুট দেয়ার ডার্টি নোজ এভরিহোয়ার!’ আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে? গওহর রিজভী না দীপু মনি? সঠিক উত্তর যদি দীপু মনি হয় তাহলে রিজভী সাহেবকে মিডিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্র বিষয়ে এত কথা বলার অনুমতি কে দিয়েছে? উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেয়া। মিডিয়ার সামনে এসে বকবক করা নয়। যদি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী কাউকে বিদেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে পাঠান- দেশে ফিরে এসে তার উচিত প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা অবহিত করা। তার আগেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে কি?

এবং দুই :
মিডিয়ার কথা উঠলো যখন- একটা কথা বলা খুব সঙ্গত মনে করছি। পত্রিকায় দেখলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের বুদ্ধিজীবী কিছু কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক-সম্পাদককে এক বৈকালিক ‘আড্ডায়’ ডেকেছেন। বলা নিষ্প্রয়োজন- [আমন্ত্রিতদের তালিকা দেখে মনে হল] এরা বলতে গেলে সবাই আওয়ামী ঘরানার। এদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের  ‘খয়ের খাঁ’ আর প্রধানমন্ত্রীর  ‘জ্বি আপা’ টাইপ বুদ্ধিজীবী। বিএনপিপন্থি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মতো দু’একজনকে রাখা হয়েছে জাস্ট  ‘শো-পিস’ হিসেবে। আমি  ‘রোম পুড়ে যাচ্ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে’ কি বাজাচ্ছে না তা বলছি না বরং বিস্মিত হয়েছি দেখে যে, প্রায়  ‘যাই-যাই সময়’-এ এসে প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ মনে পড়লো  ‘এই শ্রেণীর লোকদের’ সঙ্গে দেখা করা দরকার! প্রধানমন্ত্রীর চারপাশ ঘিরে এখন প্রেতের নৃত্য, সদা চাটুকার পরিবেষ্টিত প্রধানমন্ত্রী টেরও পাচ্ছেন না যে, তাঁকে ঘিরে নৃত্য করে চলেছে অমাবস্যার কালো অন্ধকার। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ করছি না তবে এই ধরনের আন্তরিকতা আরো আগে দেখানো কি জরুরি ছিল না? ছিল। তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, একজন প্রাক্তন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিডিয়া তথা দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি অদৃশ্য ‘দেয়াল’ তুলে দিয়েছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের তৈরি হয়েছে এক অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগপ্রাপ্ত এক ‘বিশেষ সহকারীর’ প্রচেষ্টায় এই ‘দূরত্ব’ বিমোচন আর  ‘বরফ গলানো’র উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার যোগসূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈকালিক  ‘আড্ডা’। তবে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের  ‘লিস্ট’ বানানোর ক্ষেত্রেও কলকাঠি নাড়িয়েছেন অই গুণধর প্রাক্তন সাংবাদিক।

প্রধানমন্ত্রীর এই তথাকথিত  ‘আড্ডায়’ কাকে ডাকা হবে আর কাকে ডাকা হবে না তা-ও নির্ধারণ করেছেন এই প্রাক্তন সাংবাদিক। আমন্ত্রণের জন্যে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের  ‘অম্ল-মধুর-মাদকতা’ প্রাধান্য পেয়েছে। আর এই কারণেই আমন্ত্রণ পাননি এদেশের বরেণ্য কথা সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অনেকেই।  প্রধানমন্ত্রী দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন অথচ তাঁর তলপিবাহকের একি  ‘এনালগ’ আচরণ!


About Syed Faizan Ali

Faizan is a 17 year old young guy who is blessed with the art of Blogging,He love to Blog day in and day out,He is a Website Designer and a Certified Graphics Designer.

0 comments:

Post a Comment